ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়?
অনেকেই নতুন ব্লগ শুরু করেছেন। মনে নানান ধরনের প্রশ্ন থাকে যে, ওয়েবসাইট বা
ব্লক থেকে ব্লকিং করে মাসে কত টাকা আয় করা যায়। আবার প্রশ্ন হতে পারে, অন্য
যেকোনো চাকুরীজীবীর চেয়ে কি বেশি টাকা ইনকাম করা সম্ভব? আবার আদৌ কি রিয়েল
লাইফে কেউ লক্ষ টাকা ইনকাম করেছে ব্লকিং করে? করলেও কিভাবেই বা এই টাকা তোলা
যায়? চলুন ধাপে ধাপে সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাক।
পোস্ট সূচিপত্র: ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়
ব্লগিং করে ঠিক কত টাকা আয় করা যায়
ব্লগিং করে ঠিক কত টাকা মাসে ইনকাম করা যায় এই প্রশ্নের উত্তর কেউ সঠিকভাবে দিতে
পারবে না। কারণ আপনি ব্লগিং করে মাসে সীমাহীন আয় ও করতে পারেন।
হ্যাঁ এটা সম্ভব। এমনকি বিভিন্ন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা উচ্চপদস্থ কোন চাকরিজীবী
যেমন আয় করে তার চেয়েও অনেক গুন বেশি আয় করা সম্ভব।
আমি আপনাকে কিছু তথ্য শেয়ার করব। যাতে আপনি একটু হলেও অনুমান করতে পারেন ব্লগিং
করে কত টাকা আয় করা সম্ভব।
ব্লগিং শুরু করে প্রথম এক থেকে দু বছরের আয় কেমন
আপনি ব্লগ শুরু করার এক থেকে দুই বছর আপনার আই সীমিত হবে। এরপর অভিজ্ঞতা অনুসারে
আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে। আপনি যদি বাংলা ব্লক করেন এখান থেকে প্রথম দুই বছর
হয়তো আপনি বছরের ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার আয় করতে পারবেন, যদি আপনি ইংরেজিতে ব্লক
শুরু করেন তাহলে টাকার এমাউন্ট টা একটু বাড়তে পারে সেই ক্ষেত্রে বছরে ২০০০ থেকে
৩০০০ ডলার আয় করতে পারেন।
কিন্তু যদি ব্লগিংয়ের পাশাপাশি আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং ও অ্যাফিলিয়েট
মার্কেটিং এর জ্ঞান থাকে তাহলে আপনি এরচেয়ে অনেক বেশি আয় করতে পারবেন। এটা
সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার।
ব্লগে আপনার কনটেন্ট যত বৃদ্ধি পাবে, ভিজিটর ও তত বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে
আপনার আয় ও ততো বৃদ্ধি পাবে।
ব্লগিং আসলে ব্যবসার মত
ব্লগিং বলতে গেলে ব্যবসার মত। চলুন দেখি কিভাবে। ব্যবসায়তে প্রথমে যেমন
আপনার প্রচুর শ্রম ও মূলধন বিনিয়োগ করতে হয় কিন্তু সে সময় আপনি মুনাফা
পাবেন না। ব্লগিংয়ে ও ঠিক তেমন শুরুতে আপনাকে অনেক বেশি শ্রম দিতে হবে কিন্তু
আপনি শুরুতেই আয় করতে পারবেন না। আপনার আয় করতে হয়তো এক থেকে দু বছর লেগে যেতে
পারে। যখন অভিজ্ঞ হয়ে উঠবেন অনেক আয় করতে শুরু করবেন। ব্যবসাতে যেমন ইনভেসমেন্ট
এর পরে লেগে থাকতে হয়। ঠিক ব্লগিংয়েও শুরু থেকে শেষ অব্দি লেগে থেকে পরিশ্রম
করতে হবে হাল ছাড়লে চলবে না।
আর একটা কথা বলে রাখা ভালো। অনেকেই ব্লগিং করে আয়ের জন্য। আবার অনেকে ব্লগিং করে
নিজের আবেগ (Passion) থেকে। আপনি ব্লক করে তখনই সফল হতে পারবেন যদি ব্লগিংয়ের
টপিক নিয়ে আপনার অনেক বেশি আগ্রহ থাকে বা আবেগ বা পেশান থাকে।
ব্লক হতে আয় নির্ভর করে কিসের উপরে
ব্লক হতে আপনার আয় কেমন হবে সেটা নির্ভয় নির্ভর করে আপনার ব্লগের ট্রাফিক/
ভিজিটর ও ব্লগিংয়ের বিষয়/ ধরনের উপর। এছাড়াও আপনি কোন পদ্ধতিতে আয় করছেন
সেটার উপরেও অনেকাংশে নির্ভর করে।
অনেকেই মনে করেন ব্লগিং মানে শুধু গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করা। ব্লক
থেকে আয় করার সবচেয়ে ক্ষুদ্র উৎস হচ্ছে গুগল এডসেন্স। আপনি যদি ব্লগিং এর
ক্ষমতা ও সুযোগ গুলো জানতে শুরু করেন, তাহলে আমি বলছি আপনি গুগল এডসেন্স কে ভুলে
যাবেন।
ব্লগ থেকে কি ধরনের আয় করা হয়
বিভিন্ন ধরনের আয় হতে পারে। বেশিরভাগ ব্লগার Google এডসেন্স ও অন্যান্য Ad network এর ব্যাবহার করে ব্লগে বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমে আয় করে থাকেন। এছাড়াও Affiliate marketing, Product and Service selling, Sponsorship and Product Review সহ বিভিন্ন ধরনের আয় হয়ে থাকে।
সাধারণত সবাই মনে করে ব্লক করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে গুগল এডসেন্সে ব্লগ মনিটাইজেশন করে আয় করা। কিন্তু অনেকেই ব্লগিং শুরু করে শুধুমাত্র নিজের পেসান থেকে, কেউ করে কাস্টমারকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য, কেউ করে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য।
গুগল এডসেন্স (Google AdSense)
ব্লক থেকে আয় করার সবচেয়ে সাধারণ মাধাম হচ্ছে গুগল এডসেন্স। আসুন জানি গুগল এডসেন্স আসলে কি।
গুগল এডসেন্স হচ্ছে গুগলের একটি Online Advertising Company। বিশ্বের বিভিন্ন নামিদামি বিজ্ঞাপন দাতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ইউটিউব ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য গুগল এডসেন্স টাকা নেয়। এরপর যাদের ওয়েবসাইট ও ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানো হয় তাদেরকে ওই টাকার একটা বড় অংশ দেওয়া হয়।
আপনি আপনার ব্লগে গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন দেখিয়ে টাকা আয় করতে পারেন। সকল Advertising Company গুলোর মধ্যে, Google AdSense খুবই জনপ্রিয় এবং ভালো CPC rate দেয়।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate marketing)
ব্লগ থেকে আয়ের সবচেয়ে একটি ভালো লাইফটাইম আয় এর উৎস হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। এফিলেট মার্কেটিং টা হচ্ছে, অন্য কোন কোম্পানির পণ্য বা সেবা কাউকে রেফার করে কিনতে উৎসাহী করা। যখন কোন ভিজিটর আপনার লিঙ্ক হতে পণ্য কিনবে তখন বিক্রয় মূল্যের একটি অংশ আয় করতে পারবেন অর্থাৎ ওই কোম্পানি আপনাকে একটি নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিবে।
যেমনঃ Amazon, Aliexpress, Flipkart, Daraz সহ প্রায় সকল কোম্পানির অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম রয়েছে।
Affiliate Marketer হিসেবে কাজ করার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে ওই কোম্পানির ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। বেশিরভাগ ওয়েবসাইট দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে তাদের রিভিউ জানিয়ে দেবে। আপনার আবেদন অনুমোদন পাওয়ার সাথে সাথে আপনি প্রোডাক্ট রেফার করে বিক্রি করা শুরু করতে পারেন।
এছাড়া আপনি Affiliate Network কোম্পানিগুলোর মাধ্যমেও আপনি এফিলিয়েট হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করে কাজ শুরু করতে পারেন। যে সকল ব্লগাররা খুব বেশি পরিমাণ আয় করে তারা প্রধানত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমেই আয় করে থাকে।
অনলাইন কোর্স বিক্রয়
আপনি যদি শিক্ষক বা ট্রেইনার হয়ে থাকেন, অথবা কোন একটা দক্ষতা থাকে আপনার তাহলে, আপনি সেই বিষয়ে ভিডিও লেসন বা ব্লগের মাধ্যমে কোর্স তৈরি করে বিক্রয় করতে পারেন।
আপনি যেহেতু ব্লগিং করছেন এক্ষেত্রে আপনার কোন না কোন স্কিল অবশ্যই রয়েছে। স্কিল ছাড়া অনলাইনে কোন উৎস থেকে আপনি আয় করতে পারবেন না। কোন না কোন বিষয়ে আপনার বিশেষজ্ঞ লেভেলের নলেজ না থাকলে আপনি ব্লগিংয়েও সফল হতে পারবেন না। তাই আপনার যে স্কিল ই থাকুক না কেন আপনি তা নিয়ে কোর্স তৈরি করতে পারেন এবং তা অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন।
পণ্য বা সেবা বিক্রয়
আপনার যদি বিক্রয় করার মত কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস থাকে তা বিক্রয় করেও আপনি আয় করতে পারেন। ধরুন আপনি গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং বা অন্য যে কোন স্কিল আপনার আছে এ বিষয়ে আপনি লেখালেখি করার পাশাপাশি ভিজিটরদেরকে আপনার ডিজাইন বা সার্ভিস ওফার করেও আয় করতে পারেন।
যদি আপনার কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নাও থাকে আপনি ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করেও বিক্রয় করতে পারেন। যেমন: ই-বুক, গ্রাফিক ডিজাইন, এনিমেশন ভিডিও, কুকিং রেসিপি বই, ভিডিও লেসন ইত্যাদি সেল করতে পারেন।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url